বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর থেকে পাঠানো ঘুর্ণিঝড় মোখার সর্বশেষ অবস্থান সংক্রান্ত বিশেষ খবর, ক্রমিক নম্বর ষোলো
পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও আরো ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ দুপুর বারো টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে সাতশো পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ছয়শত ত্রিশ কিলোমিটার
দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ছয়শত পঁচানব্বই কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ছয়শত পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে চোদ্দ মে দুইহাজার তেইশ সকাল ছয়টা টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টার টার মধ্যে কক্সবাজার-
উত্তর মায়ানমার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আজ রাত থেকে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায়
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাব শুরু হতে পারে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের চুয়াত্তর কিলোমিটারের এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় একশত সত্তর কিলোমিটার যা দমকা অথবা
ঝড়ো হাওয়ার আকারে একশত নব্বই কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুদ্ধ রয়েছে।
কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে আটনম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত
পুনরায় দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে আট নম্বর মহাবিপদ সংকেত পুনরায় আট নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে
পায়রা সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারী সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে আট নম্বর মহাবিপদ সংকেত
পুনরায় আট নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মোংলা সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারী সংকেত পুনরায় চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারী সংকেত দেখিয়ে
যেতে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা
এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ আট নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এবং
তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে আট থেকে ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত
হতে পারে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর,
চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক
জোয়ারের চেয়ে পাঁচ থেকে সাত ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী
বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চলের কোথাও
কোথাও ভূমি ধ্বস হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে
বলা হয়েছে।