best story

আনুরাগের ছোঁয়া সিরিয়ালের নায়ক নায়িকাদের বাস্তব জীবন সম্পর্কে আজকের ভিডিওতে জানাবো,তাদের আসল নাম, বয়স, উচ্চতা, অর্থাৎ কতটুকু লম্বা, তাদের মধ্যে কারা বিবাহিত এবং কারা অবিবাহিত, এবং তাদের মাসিক ইনকাম  কত টাকা সবকিছুই আজকের ভিডিওতে জানাবো, তো চলুন শুরু করা যাক, প্রথমে জানাবো আমাদের সবার প্রিয়, জাতীয় ক্রাশ, ডাক্তার সূর্য সম্পর্কে, নাটোকে ডাক্তার সূর্যের পুরো নাম হলো সূর্য সেনগুপ্তা, কিন্তু বাস্তব জীবনে তার আসল নাম হলো দেবজ্যোতি দত্ত,তার জন্ম ঊনিশশো নিরানব্বই সালের দুই সেপ্টেম্বর, পশ্চিম বঙ্গের কলকাতা জেলায়, তার বর্তমান বয়স হলো চব্বিশ বছর, তার বাবার নাম সোমনাথ দত্ত,  মায়ের নাম হলো অর্পিতা দত্ত, ডাক্তার সূর্য অর্থাৎ দেবজ্যোতি দত্তের একমাত্র বোনের নাম হলো রিতিশা দত্ত, ডাক্তার সূর্যের উচ্চতা হলো পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি, ওজন সত্তর কেজি, ডাক্তার সূর্য এখনো সিঙ্গেল,  অর্থাৎ এখনো বিয়ে করেন নি, তিনি কলকাতা পাবলিক স্কুলে লেখাপড়া করেছেন, তার প্রিয় খেলা হলো ক্রিকেট, তিনি খুব ভালো ক্রিকেট খেলেন এবং ক্রিকেট খেলতে খুবই ভালোবাসেন, তিনি অবসর সময়ে নতুন নতুন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন, ডাক্তার সূর্যের প্রিয় খাবারের তালিকায় বিরিয়ানী সবার আগে, এমনকি তিনি নিজে খুব ভালো রান্না করতে পারেন বলে জানা যায়, তার প্রিয় রং সবুজ,  তিনি বাগান করতেও খু্ব পছন্দ করেন,তার মাসিক আয় প্রায় পনেরো লাখ টাকা ,

এবার জানাবো, মজুমদার সেনগুপ্তার কথা, তিনি দ্বিপা নামেও পরিচিত, নাটোকে তার নাম মজুমদার সেনগুপ্তা হলেও তার বাস্তব জীবনে তার আসল নাম হলো স্বস্তিকা ঘোস, এবং তার ডাকনাম হলো রিয়া, তার জন্ম হলো এগারো সেপ্টেম্বর দুই হাজার দুই সালে কলকাতায়, তার বয়স মাত্র বিশ বছর, উচ্ছতা হলো পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি, ওজন তিপ্পান্ন কেজি, তিনি এখনো বিয়ে করেন নি, যদিও মধ্যখানে ফেসবুকে উঠেছিলো তিনি বিয়ে করেছেন, পরে সেটি গুজব বলে প্রমাণিত হয়। তার মাসিক ইনকাম প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা, তার প্রিয় খাবারের তালিকায় আছে পুসকা এবং পিজ্জা, আর মজুমদার সেনগুপ্তার প্রিয় রং হলো কালো।

এবার জানাবো উর্মি মজুমদার সেনগুপ্তার কথা,  তার আসল নাম হলো সোমিলি চক্রবর্তী, ডাকনাম হলো মিলি,তার জন্ম হলো দুই হাজার সালে, অর্থাত তার বর্তমান বয়স হলো তেইশ বছর, তার উচ্ছতা হলো পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি, ওজন একান্ন কেজি,
তিনি এখনো বিয়ে করেন নি, তার মাসিক ইনকাম প্রায় সাত লাখ টাকা, তার ফেবারিট জিনিস হলো বাগান করা এবং ঘুরে বেড়ানো, তার প্রিয় পোশাক হলো শাড়ী, তার প্রিয় খেলা হলো ফুটবল, প্রিয় রং হলুদ,

এবার আমরা যাবো স্মার্টবয় জয়ের কাছে, নাটোকে তার নাম জয় হলেও, রিয়েল লাইফে তার আসল নাম হলো প্রারদ্ধি সিং, এবং ডাকনাম হলো রিমো,তিনি কলকাতায় জন্ম গ্রহন করেন, তার বর্তমান বয়স সাতাশ বছর,  উচ্ছতা পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি, ওজন সাতষট্টি কেজি, তিনি রানাঘাট কলেজে পড়াশোনা করেছেন, জয় এখনো বিয়ে করেন নি, তার মাসিক আয় প্রায় এগারো লাখ টাকা, রিয়েল লাইফে জয় খুবই সাহসী মানুষ,  তিনি যেকোন ধরনের এডভেন্চার পছন্দ করেন, তার প্রিয় রং গোলাপি, তার প্রিয় খেলা হলো ক্রিকেট,  প্রিয় খেলোয়াড় ধোনি, এবং তার সবচেয়ে প্রিয় খাবার হলো পিতজা,

আপনার কাছে কাকে সবচেয়ে বেশী ভালো লাগে, কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না, আর এই রকম আরো ইন্টারেস্টিং তথ্য জানতে আমাদের চ্যানেলটি সাবক্রাইব করে ফেলুন, তো আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি দেখা হবে পরের ভিডিওতে।

মৌমাছি

জনি নামে ছোট্ট একটি ছেলেকে নিয়ে
এই গল্প। তার বয়স কত হবে? মাত্র তেরো
বছর। সে এক বাড়িতে চাকরি করে। কী
সেই কাজ? রাখাল বালকের কাজ।
দিনভর খাটতে হয় এ জন্য।  সকাল
বেলা ছাগলগুলোর দুধ দোয়ানোর
কাজে সহায়তা করতে হয় তাকে।
তারপর ওদের দূরের পাহাড়ের ঢালে
নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব। সেখানে দিনভর
ছাগলগুলো চরে বেড়ায়। ঘাসপাতা
খায়। সন্ধ্যা হওয়ার আগে আগেই ছাগল
নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে জনি। রাতে
আবার ছাগলের দুধ দোয়ানো হয়।
তখনো এই কাজে সহায়তা করে রাখাল
বালকটি।
ছাগলগুলো এমনিতে বেশ ভালো।
জনির কথা মেনে চলে। সাধারণত
উল্টাপাল্টা কিছু করে না। কিন্তু একদিন
ওরা বিগড়ে গেল। সে এক বিরাট
ঝামেলা। তা নিয়ে কত কাণ্ড! কত যে
কেচ্ছা কেলেঙ্কারি! জনির মাথায় হাত।
এত বড় সমস্যায় কখনোই পড়েনি সে।
ছাগলগুলো হঠাৎই কেমন যেন
বেয়াড়াপনা শুরু করে দিলো। কিছুতেই
বাগে আনা যাচ্ছিল না ওদের। রাগে
দুঃখে জনির নিজের চুল নিজে ছিঁড়তে
ইচ্ছা করছে।
হয়েছে কী, ওই দিন দাদিআম্মার
শালগম বাগানের দরজাটা ছিল খোলা।
কেউ হয়তো দরজাটা সময়মতো বন্ধ
করতে ভুলে গিয়েছিল।
তাতেই
মহাসমস্যার সূত্রপাত।
ছাগলগুলো করলো কী, হুড়মুড় করে
দৌড়ে ঢুকে গেলো দাদিআম্মার বাগানে।
দরজা খোলা পেয়েছে যে।
ঢুকেই তারা মহা আনন্দে শালগম
বাগান সাবাড় করার কাজে লেগে গেল।
জনি এই কাণ্ড দেখে হতবাক। সর্বনাশ
হয়ে গেছে। এখন উপায়? দাদিআম্মার
বড় সাধের শালগমের ক্ষেত এখানটায়।
ছাগলের দল কচমচ করে পাতা
চিবোচ্ছে। কেউ থেমে নেই। দল বেঁধে
তারা শালগম বাগানের বারোটা
বাজিয়ে দিচ্ছে।
জনি চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলে,
এই হতচ্ছাড়া ছাগলের দল। বাঁচতে
চাইলে শালগমগাছ খাওয়া বন্ধ কর।
বাড়ি চল এক্ষুনি। কথা না শুনলে বেদম
পিটুনি খাবি।
তারপর
একটা বাঁশের কঞ্চি জোগাড় করে নেয়
জনি। কোনো লাভই হয় না
তাতে। তারা জনিকে পাত্তাই দেয় না।
পাত্তা দিতে বয়েই গেছে যেন। কঞ্চির
পিটুনি দেয়ার সুযোগই পায় না জনি।
ছাগলগুলো এলোপাতাড়ি দৌড়াচ্ছে।
হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে না।
দৌড়াতে দৌড়াতে জনি ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
হাঁফাতে থাকে। উহ কতক্ষণ আর
দৌড়ানো যায়। হতচ্ছাড়া ছাগলের দল
কিন্তু থেমে নেই।
কচকচ করে তারা শালগমের কচি সবুজ
পাতা খেয়েই চলেছে। যেন বেহেশতি
খাওয়া। খাওয়ার ধুম পড়ে গেছে। মুখ
চলছে সমানে। বিশাল বাগান। মনে
হচ্ছে, প্রতিটি গাছ সাবাড় না করা পর্যন্ত
থামবে না ওরা। ভাব-লক্ষণ সে রকমই
মনে হচ্ছে। জনি হতাশ, উদভ্রান্ত। দস্যি
ছাগলগুলোর সাথে পেরে উঠছে না সে।
ভ্যাঁ করে করে কেঁদে ফেলে তাই।
বিলাপ করে কাঁদতে থাকে সে।
ওই সময় ওখান দিয়ে যাচ্ছিল একটা
শেয়াল। কী ভেবে থমকে দাঁড়ায়
প্রাণীটি। জনিকে সে জিজ্ঞেস করে,
কাঁদছো কেন বাছা? কী, হয়েছে কী
তোমার?

জনি ফোঁপাতে ফোঁপাতে জবাব দেয়,
আর বোলো না, ভাই। শয়তান
ছাগলগুলো নিয়ে আর পারছি না। এক
একটা যা ত্যাঁদড় হয়েছে না।
দাদীআম্মার শালগমের বাগান ওরা
উজাড় করে ফেলছে। ওদের থামাতে
পারছি না। অপমানে, রাগে, দুঃখে তাই
কাঁদছি।
শেয়াল বিজ্ঞের মতো মাথা নেড়ে বলে,
ও আচ্ছা, এই ব্যাপার? তুমি বাছা
এখানটায় চুপ করে বসে থাকো। আমি
দেখছি, কদ্দুর কী করা যায়। ছাগল
তাড়ানোর ভারটা আমার ওপর ছেড়ে
দাও। ওদের আমি বাগান থেকে হটিয়ে
দিচ্ছি।
শেয়াল তার কাজে নেমে পড়ে। হুক্কা
হুয়া হুক্কা হুয়া ডাক ছেড়ে ছাগল
তাড়ানোর চেষ্টা শুরু হয় তার। হইহই
করে ছাগলের ঝাঁক তাড়া করে বেড়ায়
সে। দুষ্টু ছাগলগুলো তাড়া খেয়ে
বাগানেই ছোটাছুটি করতে থাকে।
শেয়াল তাদের নাগাল পায় না।
ঘণ্টাখানেক শেয়ালে-ছাগলে হুটোপুটি
চলল। শেষ পর্যন্ত বিফল হলো অভিযান।
শেয়াল ক্লান্ত হয়ে পড়ে একপর্যায়ে। আর
পারা যাচ্ছে না। যথেষ্ট দৌড়াদৌড়ি
হয়েছে। শেয়াল ভাবে, দু’দণ্ড জিরিয়ে
নেয়া যাক। চার পা, গোটা শরীর ব্যথা
করছে। এত জোরে কখনোই সে
দৌড়ায়নি। তাই ক্লান্তিটা বেশি।
মিঝিম করছে মাথা। ব্যাপারটা যে
অত কঠিন হবে, তা আগে আন্দাজ করা
যায়নি।
জনি সব খেয়াল করল। শেয়াল
ছাগলগুলোকে বশ করতে পারেনি।
জিভ বের করে হাঁফাচ্ছে বেচারা। এ
দিকে জনির ফোঁপানি কিন্তু থামেনি
একটুও। ক্লান্ত শেয়াল একপর্যায়ে
জনির পাশে এসে বসে। নিজেও কান্না
শুরু করে দেয়।
খানিক পর ওখানটায় এক কুকুরের
আগমন। শেয়ালকে শুধায় সে,
কেন তোমরা কাঁদছ? ইশ, কাঁদতে
কাঁদতে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছ দেখছি।
কী হয়েছে, আমাকে একটু বলবে?
শেয়াল হুক্কা হুয়া বলে বিলাপ করে
কেঁদে ওঠে। বলে, আমি কাঁদছি, কারণ
জনি কাঁদছে। ওর দুঃখে আমি সমব্যথী।
জনি কাঁদছে, কারণ সে বদমাশ
ছাগলগুলো তাড়াতে পারেনি।
দাদীআম্মার সাধের শালবাগান ওদের
দ্বারা তছনছ হয়ে যাচ্ছে। আমি নিজেও
ছাগলগুলোকে শায়েস্তা করার চেষ্টা
করেছিলাম, পারিনি। মনের দুঃখে তাই
কাঁদছি।

কুকুর কী যেন একটু চিন্তা করে।
তারপর সবজান্তার মতো বলে, ঘেউ,
আমার মনে হয়, এই সমস্যাটার
সমাধান আমি করতে পারব। এ নিয়ে
তোমরা ভেবো না। চুপটি করে বসো।
দেখোই না কী করি।
কুকুর দৌড়াতে শুরু করে। ছাগলের
পালের পেছন পেছন। ছাগলগুলোও
তিড়িংবিড়িং করে লাফাতে থাকে।
লাফানো না শুধু, রীতিমতো দৌড়ানো।
শুরু হয় কুকুর  ছাগলে দৌড়াদৌড়ির
খেলা।
জোরেশোরে ছুটতে পারার জন্য
কুকুরের সুনাম আছে। ছোট-বড় সবাই
সেটা জানে। কুকুর কিন্তু এই দফায়
ফেল মেরে গেল। সে পারল না।
ছাগলগুলো এমন জোরে জোরে
দৌড়াল যে, কারো নাগালই পাওয়া
গেল না।
কুকুর হতাশ, পরাজিত। বেজার মুখে
রণে ভঙ্গ দেয় সে। অপমানের জ্বালায়
মুখটা তার কাঁদো কাঁদো। শেয়াল ও
জনির সাথে সেও এসে যোগ দিলো।
শুরু করে দিলো কান্নাকাটি। এখন ওরা
তিনজন। সবাই মিলে কাঁদছে।
এমন সময় দুলকি চালে হাঁটতে হাঁটতে
চলে এলো এক খরগোশ। তিনজনার
মিলিত কান্নার শব্দ সে শুনতে পেয়েছে
অনেক দূর থেকে। কৌতূহল মেটাতে
তাই চলে এসেছে ঘটনাস্থলে
দেখে একি কাণ্ড! বিচিত্র ব্যাপার।
খরগোশ তার লম্বা দু’টি কান খাড়া
করে। সবার মিলিত কান্না মন দিয়ে
শোনে। পিটপিট করে তাকিয়ে দেখে,
মরাকান্না কাঁদছে তিনজনা। সে
কৌতূহলী মুখ করে জানতে চায়, বলি,
এত কান্নাকাটির কী হয়েছে বাপুরা? কী
এমন ঘটনা ঘটেছে যে এমন করে
এতিমের মতো কাঁদতে হবে?
তোমাদের আপনজন কেউ মারাটারা
গেছে নাকি?
কুকুর ও শেয়াল কাতর কন্ঠে জানায়,
জনি কাঁদছে বলে আমরাও কাঁদছি। জনি
একটা মহাবিপদের মধ্যে আছে।
দাদিআম্মার শালগমের বাগান সাফ
করে ফেলছে দস্যি ছাগলের দল। জনি
সেটা থামাতে পারেনি। বাড়ি ফিরলে
বকাঝকা খেতে হবে। এমনকি মারও
জুটতে পারে। তাই সে দিশেহারা হয়ে
কান্নাকাটি করছিল।
আমরাও ছাগল তাড়ানোর কাজে ঝাঁপিয়ে
পড়েছিলাম; তাড়াতে পারিনি। তাই
আমরাও কাঁদছি।
খরগোশ এ কথা শুনে একটু গম্ভীর হয়ে
যায়। মাথা চুলকে বলে, ও আচ্ছা আচ্ছা।
ব্যাপার তাহলে এই। আমি ভেবেছিলাম
কী না কী। ঠিক আছে, আমিও একটু চেষ্টা
করে দেখি না কেন। আমাকে একটা
সুযোগ দাও দিকি। কিছু যদি করা যায়। না
পারলে আমিও তোমাদের সাথে
কান্নাকাটি করব। তোমাদের একজন সঙ্গী
বাড়বে তাহলে।

সবাই সমস্বরে বলে, হ্যাঁ, হ্যাঁ। তাই করো।
যাও, কাজে লেগে পড়ো। ধাড়ি
ছাগলগুলোকে আচ্ছামতো শাসানি দাও।
ওদের ঠেঙাতে পারলে আমরা খুশি হবো।
তখন আমরা শান্তি পাবো। সবার
কান্নাকাটি তখন বন্ধ হয়ে যাবে। যে যার
কাজে চলে যেতে পারব তখন।
খরগোশ তার গুরুত্ব ও মর্যাদা বুঝতে
পেরে মনে মনে পুলকিত হয়। চোখেমুখে
নকল একরকমের গাম্ভীর্য এনে বলে, বেশ
তো। দেখিই না পাজিগুলোকে সামলানো
যায় কি না। সব ক’টাকে ঝেঁটিয়ে বিদেয়
করে দেবো শালগমের বাগান থেকে।
তারপর আমরা সবাই মিলে ফুর্তি করব।
খরগোশ দেরি করে না এক মিনিটও।
তক্ষুনি কাজে লেগে পড়ে। কিন্তু
ছাগলগুলো মহাধড়িবাজ। পুঁচকে একটা
খরগোশকে তারা মানতে যাবে কোন
দুঃখে? তাই থোড়াই কেয়ার করে। উল্টো
খরগোশকে শিং দিয়ে গুঁতো মারে।
তারপর কী হলো? যা হওয়ার তা-ই হয়।
খরগোশও যথারীতি ব্যর্থ হয়। সে
খানিকটা আহত পর্যন্ত হয়েছে। শিংয়ের
গুঁতো আগে কখনো খায়নি সে। ছাগল
তাড়ানোর কাজে নিতান্ত অনিচ্ছায় ক্ষান্ত
দিতে হলো তাকে। না দিয়ে উপায়ও
ছিল না। বাপ রে বাপ! এই অভিযানে যা
মেহনত। রীতিমতো ঘেমে গেছে সে
দৌড়াতে দৌড়াতে। ছাগলগুলো বড়
বেহায়া। তাদের কোনো ভাবান্তর নেই।
শালগম বাগানের বারোটা বাজানোর
কাজ চলতেই থাকে আগেকার মতো।
খরগোশ আর কী করে! অগত্যা সেও
গিয়ে শামিল হলো ওই ছিঁচকাদুনে
দলের সাথে। কান্নাকাটি করা ছাড়া
তারা করবেই বা কী! তার ধারণাই ছিল
না যে, ছাগল তাড়ানোর কাজে এত
ঝক্কি। এত ঝামেলা। সফল হলেও না হয়
কথা ছিল।
সম্মিলিত কান্নাকাটি চলতে থাকে।
ছাগল তাড়াতে গিয়ে সবাই বিফল
হয়েছে। লজ্জায় অপমানে রাগে তারা
কাঁদছে। এই সময় হঠাৎ কোত্থেকে যেন
ভোঁ ভোঁ করে উড়তে উড়তে একটা
ছোট্ট মৌমাছি এসে হাজির হয়। জনি,
শেয়াল, কুকুর ও খরগোশের চার পাশ
দিয়ে কয়েক চক্কর পাক খায় সে।
একসাথে এতজনকে কখনো কাঁদতে
দেখেনি মৌমাছি। খুবই অবাক ব্যাপার।
কী হয়েছে এখানে? ওরা কেন এমন
সর্বহারার মতো কাঁদছে সেটা জানা
দরকার।

জানার জন্যই ওড়াউড়ি বন্ধ করে থামল
সে। থেমেই প্রশ্ন করে কাঁদুনে পার্টিকে
কী ব্যাপার? সবাই মিলে এমন কাঁদছ
কেন? ঘটেছে কী? আমাকে একটু খুলে
বলো না। মৌমাছির মতো পুঁচকে
একটা প্রাণী কী আর করতে পারে?
তার দৌড় কত দূর পর্যন্ত? এমনটা
ভেবে কেউই তার কথার জবাব দেয়
না। জবাব দেয়া যে আসলেই দরকার,
সেটাও মাথায় আসে না কারোই।
মৌমাছি আবার তাড়া দেয়, কী
ব্যাপার? তোমরা কেউই আমার প্রশ্নের
উত্তর দিচ্ছ না যে? কী হয়েছে একটু
বলবে তো। হয়তো আমি তোমাদের
কোনো কাজে লাগতে পারি।
খরগোশ বেজার মুখে বলে, ভাই রে,
ঘটনা যা ঘটে গেছে এবং ঘটছে তা
বড়ই গুরুতর। তোমাকে বলে আর কী
হবে? তুমি কিছু করতে পারবে না।
সুতরাং বলে কোনো ফায়দা নেই।
নিজের কাজে যাও বাছা, যেমনটা তুমি
যাচ্ছিলে।
মৌমাছি গোঁ ধরে না, না। নিজের
কাজে আমি যাবো, তবে একটু পরে।
এখানে কী ঘটেছে তা আমাকে
বলতেই হবে। বলেই দেখো না বাপু।
শেষমেশ হয়তো তোমাদেরই লাভ
হবে। আমাকে অত ফালতু আর
অকাজের ভেবো না। ছোট হলেও
কোনো কোনো ব্যাপারে আমার
ক্ষমতা, দক্ষতা অনেক। পরীক্ষা নিয়েই
দেখো না কেন!
শেয়াল দোনোমোনো করে বলে, আচ্ছা
বেশ। শোনো তাহলে সব কথা
তোমাকে খুলে বলছি। শুনলেও তুমি
কিছু করতে পারবে না। আমরা
এতগুলো প্রাণী যেখানে পারিনি, তুমি
পারবে কেমন করে?
মৌমাছি সবটা শুনে মন্তব্য করে, এটা
তেমন কোনো সমস্যাই না। মাত্র দশ
মিনিটের ব্যাপার। এর চেয়ে বেশি
লাগবে না। এই সামান্যটুকু সময়
তোমরা আমাকে দাও। সময়টা দিয়ে
চুপচাপ বসে বসে মজা দেখো। সব
সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছি। তোমরা
শুধু চেয়ে চেয়ে দেখো কিভাবে কী ঘটে, সেটা
প্রাণভরে দেখো। কাজ সমাধা হয়ে
গেলে তোমরা অবশ্যই আবাক হবে।
তারপর বলবে যে খুদে এই মৌমাছি
জাদু জানে। না হলে এমন কঠিন একটা
কাজ এত তাড়াতাড়ি এত সহজে
কিভাবে করে ফেলল?
মৌমাছি এক সেকেন্ডও দেরি করে না।
কাজ শুরু করে দেয় । কাজটা  অতটাও
জটিল নয়। কিভাবে কী করতে হবে, সে
কৌশল বেশ ভালোমতোই জানা আছে
তার। সে সোজা উড়ে যায় ছাগলের
পালের যে দলনেতা, সেই ধাড়ি
ছাগলটার কাছে। তার কানে ঢুকে পট
করে হুল ফুটিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় ছটফট
করতে থাকে দুষ্টু ছাগল। মহা
আতঙ্কিত হয়ে এলোপাতাড়ি লাফঝাঁপ
করতে থাকে।
মৌমাছি কিন্তু ছাগলের কানের ভেতরেই
বসে আছে। ভোঁ ভোঁ শব্দ করছে। বুড়ো
ছাগলটা অবাঞ্ছিত এই উৎপাত থেকে
বাঁচার জন্য প্রাণপণ মাথা ঝাঁকাচ্ছে।
কিন্তু কিসের কী? মুক্তি পাওয়ার উপায়
নেই কোনো।

মৌমাছি এখন দ্বিতীয়বার হুল ফোটায়।
ধাড়ি ছাগল মরণচিৎকার দিয়ে চার পা
ছুড়তে থাকে। মৌমাছি তখন অন্য কানে
উড়ে গিয়ে হুল ফোটায়। ধাড়ি ছাগলের
লাফানির চোটে দলের অন্য সব ছাগল
হতভম্ব। ঘটনার আকস্মিকতায় তারা
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। ব্যাপার কী?
মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছে না তারা।
দলপতি ছাগল প্রাণ বাঁচাতে পড়িমরি
করে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে যায়।
শালগমের বাগান পড়ে থাকে পেছনে।
দলনেতা ঠিক করে, এখানে আর এক
মুহূর্তও থাকা নয়। যতসব ঝামেলার
উৎপত্তি এখানেই। মৌমাছি একের পর
এক অন্যান্য ছাগলের কানেও হুল
ফোটাতে থাকে। সব্বাই ছটফট করতে
করতে বাগান ছেড়ে বেরোয়। অল্প দূরে
একটা পুকুর আছে। সব ছাগল গিয়ে
সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাগান যখন
একেবারেই ছাগলশূন্য হয়ে পড়ে,
মৌমাছির অভিযান শেষ হয় তখন। তার
মুখে ফুটে ওঠে বিজয়ীর গর্বিত হাসি।
এমন আনন্দ সে জীবনে আর কখনো
পায়নি।
জনি এখন মহাখুশি। ছোট মৌমাছির
দারুণ কাজের তারিফ করে মুক্ত কণ্ঠে,
অজস্র ধন্যবাদ তোমাকে, প্রিয়
মৌমাছি। আজ তুমি যা করে দেখালে,
তার কোনো তুলনাই নেই। আমরা
অবাক হয়েছি তোমার নৈপুণ্য দেখে।
তোমার উপকার আমরা কোনো দিন
ভুলব না। তোমার ওপর আমরা
প্রথমটায় আস্থা রাখতে পারিনি। সে
জন্য আমাদের দোষ ধরো না । আজ থেকে তুমি আমাদের
বন্ধু হলে। পরম বন্ধু। মহাবিপদ থেকে
তুমি আমাদের উদ্ধার করেছ। সেই ঋণ
শোধ করার ক্ষমতা ও সাধ্য আমাদের
কারোরই নেই।
শেয়াল, কুকুর, খরগোশও অনেক
অনেক ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানায়
ছোট্ট মৌমাছিকে। যে কাজটা তারা
নিজেরা শত চেষ্টা করেও করতে
পারেনি, এতটুকু ছোট্ট প্রাণী সেটা খুব
সহজেই করে ফেলেছে। সত্যি মৌমাছি
একটা বাপের ব্যাটা। ওর এই ক্ষমতার
কোনো নজির গোটা দুনিয়ায়ই বোধ
করি নেই। প্রশংসা পেয়ে মৌমাছিও মহা
খুশি। শুধু প্রশংসাই নয়, সবাই তার বন্ধু
হয়েছে। সেটা বাড়তি পাওনা। আনন্দিত
মনে ভোঁ ভোঁ শব্দ তুলে সে চলে যায়
নিজের কাজে।

পৃথিবী

পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়

আমাদের পৃথিবীকে সাধারণত গোল বলে বর্ণনা করা হয়, কিন্তু এটি আসলে পুরোপুরি গোলাকৃতির নয়। দুই মেরুর কাছে পৃথিবী কিছুটা চাপা , কাজেই আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে পৃথিবী আসলে উপ-বর্তুলাকার। আর সব গ্রহের মতোই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং নিজের অক্ষের উপর ঘূর্ণনের কারণে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে মেরু অঞ্চল কিছুটা চ্যাপ্টা, আর নিরক্ষীয় অঞ্চল কিছুটা চওড়া। এ কারণেই বিষুব রেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস এক মেরু হতে অন্য মেরু বরাবর ব্যাসের চেয়ে ৪৩ কিলোমিটার বেশি।

পৃথিবীর ৭০ ভাগ পানি

পৃথিবীতে পানি আছে কঠিন, তরল এবং বায়বীয়- এই তিনটি আকারে।

এছাড়া বিশ্বের উপরিভাগের তিন চতুর্থাংশই পানিতে ঢাকা, যা আছে হিমবাহ, জলাভূমি, লেক, নদী, সাগর কিংবা মহাসাগরের আকারে।

তবে বিশ্বের পানির ৯৭ ভাগই মহাসাগরের লবণাক্ত পানি।

স্পেস বা মহাকাশের শুরু যেখান থেকে

বিশ্বের একশ কিলোমিটার ওপর থেকেই স্পেস বা মহাকাশের শুরু।

বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশের যে সীমানা সেটি পরিচিত কারম্যান লাইন হিসেবে, যা সমুদ্রসীমার একশ কিলোমিটার ওপরে।

বায়ুমণ্ডলে যেসব পদার্থ আছে, তার ৭৫ শতাংশই কিন্তু সমুদ্র সমতল হতে প্রথম ১১ কিলোমিটারের মধ্যে।

পৃথিবীর কেন্দ্রভাগ গঠিত মূলত লোহা দিয়ে

সৌরজগতে পৃথিবী হলো পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ।

পৃথিবীর সবচেয়ে অভ্যন্তরভাগ একটি নিরেট বলের মতো বলে মনে করা হয়। এটির ব্যাসার্ধ প্রায় বারোশো কিলোমিটার।

এটি মূলত লোহা দিয়ে গঠিত, যা এর ওজনের প্রায় ৮৫ শতাংশ। আর আছে নিকেল, যা এই নিরেট বলের প্রায় দশ শতাংশ।

পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণ আছে

এই মহাবিশ্বে পৃথিবী একমাত্র নভোমণ্ডলীয় স্থান, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। পৃথিবীতে তালিকাভুক্ত প্রাণির প্রজাতির সংখ্যা এখন ১২ লাখ।

যদিও এটিকে মোট প্রাণির একটি সামান্য অংশ বলে মনে করা হয়।

২০১১ সালে বিজ্ঞানীরা ধারণা দিয়েছিলেন যে প্রাকৃতিক বিশ্বে প্রায় ৮৭ লাখ প্রজাতি আছে সব মিলিয়ে।

এই পৃথিবীর গঠন হয়েছিলো প্রায় চার দশমিক পাঁচ বিলিয়ন বছর আগে এবং এর সম্পদ, ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ও এর কক্ষপথের কারণেই এখানে লাখ লাখ বছর ধরে প্রাণের অস্তিত্ব টিকে আছে।

বিশ্বের সর্বত্র মাধ্যাকর্ষণ সমান নয়

আমাদের পৃথিবী যেহেতু নিখুঁত গোলক আকৃতির নয় এবং এর ভরও যেহেতু সর্বত্র সমানভাবে বিস্তৃত নয়, তাই মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্র এবং শক্তিরও তারতম্য আছে বিভিন্ন জায়গায়।

যেমন, আমরা যখন বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হই, মাধ্যাকর্ষণ শক্তির তীব্রতা বাড়তে থাকে।

তবে মানুষের পক্ষে এই শক্তির তারতম্য অনুভব করা সম্ভব নয়।

পৃথিবী চরম বৈচিত্র্যের গ্রহ

এই পৃথিবী চরম বৈপরীত্যে পূর্ণ। ভৌগলিক এবং জলবায়ুর বৈচিত্রের কারণে প্রতিটি অঞ্চলেরই অদ্ভূত কিছু বৈশিষ্ট্য আছে।

পৃথিবীর উষ্ণতম স্থানের দাবিদার অনেক অঞ্চল আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডেথ ভ্যালীতেই এ পর্যন্ত বিশ্বের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ১৯১৩ সালের ১০ জুলাই ৫৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল থার্মোমিটারে।

এর একদম বিপরীতে আছে অ্যান্টার্কটিকা। ১৯৮৩ সালের ৩১শে জুলাই সেখানে ভস্তক স্টেশনের যন্ত্রে তাপমাত্রা নেমে এসেছিল মাইনাস ৮৯ দশমিক ২ ডিগ্রিতে।

পৃথিবীতে জীবন্ত প্রাণের বৃহত্তম কাঠামো

অস্ট্রেলিয়া উপকূলের দ্য গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ হলো পৃথিবীতে জীবন্ত প্রাণের একক বৃহত্তম কাঠামো। এটি এত বড় যে, মহাকাশ থেকেও এটি দেখা যায়।

প্রায় দু হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এই রিফে অসংখ্য সামুদ্রিক প্রজাতি বাস করে।

১৯৮১ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে

সৌরজগতে একমাত্র পৃথিবীতেই সক্রিয় টেকটনিক প্লেট আছে

পৃথিবী হচ্ছে একমাত্র গ্রহ যেখানে সক্রিয় টেকটনিক প্লেট বিদ্যমান।

এই প্লেটগুলোর নড়াচড়ার কারণে পৃথিবীর ভুপৃষ্ঠ ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। পৃথিবীতে পাহাড়-পর্বত গঠনের পেছনে এই প্লেটগুলোর ভূমিকা আছে।

এগুলোর কারণেই ভূমিকম্প হয়, আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত হয়।

আবার এই প্লেটগুলো পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউজ গ্যাসের রিসাইক্লিংয়ে সহায়তা করে।

পৃথিবীর একটি সুরক্ষা ঢাল আছে

পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড সূর্যের উচ্চমাত্রার শক্তি কণা থেকে সুরক্ষার জন্য একটি ঢাল হিসেবে কাজ করে।

এই ম্যাগনেটিক ফিল্ড বিস্তৃত পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে শুরু করে বহিসীমা পর্যন্ত, যেখানে এটি সৌর বাতাসের সংস্পর্শে আসে।

পাশাপাশি এই ম্যাগনেটিক ফিল্ড অনেক প্রাণীকে পথ খুঁজে পেতে সহায়তা করে। আমাদেরকেও কম্পাসের মাধ্যমে দিকনির্ণয়ে সাহায্য করে এটি।

Design a site like this with WordPress.com
Get started